জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠতে বাধা দেয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আহত করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্য সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বগুড়া শহরের সাতমাথা সংলগ্ন শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পাঁচ পুলিশ সদস্য জুতা পায়ে শহীদ মিনারে না উঠতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুই সাংসদের সামনেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। লাঠির আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়, কনস্টেবল পারভেজের মাথা ফেটে যায়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলাম এবং পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল পারভেজ, সিফাত ও মামুন। পারভেজকে বগুড়া পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ২০ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ছাত্রদল, বাঁধা দেয়ায় রক্তাক্ত পুলিশ! 1
ছাত্রদলের হামলায় রক্তাক্ত পুলিশ।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দাঁড়ালে কয়েকজন পথচারী বিষয়টি পুলিশকে জানান। বিষয়টি আমরা সাংসদের নজরে এনে নেতা-কর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নেমে আসার জন্য অনুরোধ করি। এ সময় হঠাৎ করেই নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন এবং অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পরে সমাবেশ থেকে ফেরার পথে ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।’