গতকাল মেহেদী হাসানকে তিনে নামিয়ে চমকে দিয়েছিল ঢাকা প্লাটুন। কারণ হিসেবে এই অলরাউন্ডার বলেছিলেন তাঁর উইকেট নাকি মূল্যহীন। তাই প্রতিপক্ষের সেরা বোলারের সামনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আজ তেমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি। কিন্তু আজও তিনে নেমেছেন মেহেদী। এবং ব্যাটের ঝড়ে আড়ালে ফেলে দিয়েছেন ব্যাটিং লাইন আপের সব বড় নামগুলোকে। ঢাকার টপ অর্ডারের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং সিলেট থান্ডারকে পঞ্চম পরাজয় উপহার দিল আজ। ১৭৫ রানের লক্ষ্য ৯ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়েই ছুঁয়ে ফেলেছে ঢাকা।

গতকাল ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ৯ রান দিয়েছিলেন মেহেদী। আজ কিপটেমি দেখাতে পারেননি। ৩ ওভারে দিয়েছেন ৩৩ রান। কিন্তু কাজের কাজ প্রথম বলেই করেছেন। ভয়ংকর আন্দ্রে ফ্লেচারকে ফিরিয়েছেন প্রথম বলেই। জনসন চার্লস ও মোহাম্মদ মিঠুন মিলেও তাই সিলেটকে দুই শ ছোঁয়া স্কোর এনে দিতে পারেননি। ইনিংসের মাঝপথে চার্লস ফিরে না গেলে অবশ্য গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। মাত্র ৪৫ বলে ৮ ছক্কা ও ৩ চারে ৭৩ রান করা চার্লসের বিদায়ের সময় দলের রান ছিল ৯৩। সেটা পরের দশ ওভারে মাত্র ৮২ বাড়াতে পেরেছে সিলেট। ৩১ বলে ৪ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মিঠুন।

তাড়া করতে নামা ঢাকার শুরুটা হয়েছে একদম পরিকল্পনা মাফিক। ক্রিশমার সান্টোকির বলে রান তুলতে ব্যর্থ হলেও সোহাগ গাজী ও মোসাদ্দেককে নতুন বলের সুবিধা নিতে দেননি এনামুল হক ও তামিম ইকবাল। অষ্টম ওভারে থেমেছে ৫৮ রানের জুটি। ২৩ বলে ৩২ করে ফিরেছেন এনামুল। অন্যপ্রান্তে ধীর লয়েই এগোচ্ছিলেন প্রথমেই দুটি ছক্কা মারা তামিম। মেহেদী নামার পর ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে সিলেট।

৮ ওভার ২ বল স্থায়ী দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এসেছে ৮৭ রান। এর মাঝে ৫৬ রানই মেহেদীর। ২৮ বলে ৫৬ তোলা মেহেদীর উল্টো দিকে ইনিংস ধরে রাখার কাজ করেছেন তামিম। জুটিতে ২২ বলে ২৯ রান এনে দিয়েছেন তামিম। ২৩ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া মেহেদীর ৫ চার ও তিন ছক্কার ইনিংস শেষ হয়েছে এবাদতের বলে। জয় থেকে তখনো ৩০ রান দূরে ছিল ঢাকা। জাকের আলীর ১১ বলে ২২ রান কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। অন্যপ্রান্তে ৪৯ বলে ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম।

৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্টে এখন দুইয়ে আছে ঢাকা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট পেয়ে শুধু রংপুরের ওপরে আছে সিলেট।